বাংলাদেশসহ ১৪ দেশে শুল্কের সময়সীমা ‘চূড়ান্ত নয়’,আলোচনার সুযোগ রেখেছেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ববাণিজ্যে উত্তেজনার সুর তুলেছেন। সোমবার (৭ জুলাই) তিনি বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে দিয়েছেন দর-কষাকষির ইঙ্গিত।
আগামী ১ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে না পৌঁছালে এসব দেশের পণ্যে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব সময়সীমা ঠিক আছে, তবে একেবারে শতভাগ নয়। কেউ ভালো প্রস্তাব দিলে, সেটা বিবেচনা করা হবে।
ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, বাংলাদেশের পণ্যে ৩৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৩২ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ হারে শুল্ক বসানোর প্রস্তাব রয়েছে।
এই তথ্য জানিয়ে সোমবার বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট ১৪টি দেশের সরকারকে চিঠি দিয়েছেন ট্রাম্প। ওই চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি না হলে শুল্ক কার্যকর হবে।
বাকি দেশগুলো হলো—জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, কাজাখস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, লাওস, মিয়ানমার, বসনিয়া অ্যান্ড হারজেগোভিনা, তিউনিশিয়া, সার্বিয়া ও কম্বোডিয়া।
ট্রাম্প আরও বলেন, গত এপ্রিলে স্থগিত করা পাল্টা শুল্ক আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় কার্যকর হবে। আর তা আগের তুলনায় আরও বেশি হারে হতে পারে।
এর আগে, ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর আলোচনার সুযোগ দিয়ে প্রায় ১০০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেন তিনি। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৯ জুলাই। তবে নতুন ঘোষণায় তা বাড়িয়ে ১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকি। আলোচনার সুযোগ রাখলেও ট্রাম্পের দ্বিমুখী অবস্থানে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারির পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়। নাসডাক সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হারে কমে যায়।
ট্রাম্পের ঘোষণায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা একে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অনেক দেশের কাছে একটি বিপজ্জনক বার্তা হিসেবে পৌঁছাবে। এতে বিশ্ববাণিজ্যে পারস্পরিক আস্থা কমে যেতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা বেশ কয়েকটি ঘোষণা দেব।