বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত, শাবাশ! আদনান ও টিম ‘আলী’: শাকিব খান
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য এক গৌরবময় মুহূর্ত রচনা করল স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘আলী’। ৭৮তম কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ বা বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছবি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ছবিটি। এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য নজিরবিহীন এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন বিজ্ঞাপন ও নাট্যনির্মাতা আদনান আল রাজীব। উৎসবের সমাপনী দিনে, গতকাল শনিবার (২৫ মে), কানের অফিশিয়াল ঘোষণায় প্রকাশ পায় ‘আলী’র এই অর্জন।
‘আলী’ প্রদর্শিত হয় ২৪ মে, কানের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগের প্রতিযোগিতায়। পরদিনই ঘোষণা আসে, ছবিটি পেয়েছে বিশেষ স্বীকৃতি। কানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ছবিটির গল্প নিয়ে বলা হয়েছে, উপকূলবর্তী এক শহরের পটভূমিতে এক কিশোরের গান গাওয়ার সাহস ও সংগ্রামের গল্প এটি। সেই শহরে নারীদের গান গাইতে দেওয়া হয় না, আর সেখানে এক কিশোর গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শহরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। গানের মধ্যে লুকিয়ে থাকে এক অজানা রহস্য।
চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আল আমিন।
চলচ্চিত্রটি স্বীকৃতি পাওয়ার পর অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন সুপারস্টার শাকিব খান। ফটোকার্ডসহ দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শাবাশ, আদনান ও টিম “আলী”।’
শাকিব খানের এই শুভেচ্ছার উত্তরে পরিচালক আদনান আল রাজীব লিখেছেন, ধন্যবাদ শাকিব খান, আপনাকে ভালোবাসি।
স্বীকৃতির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করে আদনান লেখেন, এটা বাংলাদেশের জন্য। ধন্যবাদ কান চলচ্চিত্র উৎসব।
এর আগে প্রদর্শনীর আগের রাতে তিনি জানিয়েছিলেন, আমি মুখোমুখি হব একজন নির্মাতা হিসেবে, নিজের গল্প নিয়ে, নিজের ভাষা নিয়ে। ভয় নেই; কারণ আমি জানি, এটা আমার সত্য।
পরিচালক আদনান জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সিলেটের বিভিন্ন লোকেশনে টানা পাঁচ দিন ধরে সিনেমাটির শুটিং হয়। ছবিটি তৈরি করা হয় ‘ক্যাটালগ’ নামের একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে, যেখানে বাংলাদেশের হয়ে রয়েছেন আদনান ও তানভীর এবং ফিলিপাইনের আরও দুই নির্মাতা।
আদনান বলেন, আমরা তো কখনোই কানের কথা ভাবিনি। একটা অভিনব ভাবনা মাথায় এলো, সেটাকে কেন্দ্র করেই এই চলচ্চিত্র বানানো। ফেব্রুয়ারিতে আমরা “আলী” জমা দিই কানে, এরপর মনোনয়নের খবর পাই।
প্রায় ১৮ বছর ধরে বিজ্ঞাপন, নাটক ও অন্যান্য ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট নির্মাণে যুক্ত আদনান আল রাজীবের জন্য এটি সবচেয়ে বড় অর্জন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘আলী’র স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও দৃঢ় অবস্থান নেবে বলে আশা করছেন চলচ্চিত্র-সমালোচক ও নির্মাতারা।