বাংলা হবে আফগান বলে কী এই আমেরিকান

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের বিস্ফোরক মন্তব্য, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক সে মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ, তা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের বাড়াবাড়ি এবং ১৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জে আরসা প্রধান গ্রেপ্তার ! সব মিলেয়ে বড় একটা  ভজকট লেগে গেছে যেন রাজনীতির মাঠে ! থামতেই চাইছে না কিছুতেই। পুরো দেশ আজ কয়েক মতে বিভক্ত ! কেউ বলছে তুলসী বাড়াবাড়ি করেছে। কেউ বলছে – তুলসীর মুখ থেকে যা বের হচ্ছে সেটা আসলে ভারতের শিখিয়ে দেয়া কথাই ! আবার কেউ বলছে- বেশি কী বলেছে  গোয়েন্দা প্রধান !উনি ভুল বললে- নারায়ণগঞ্জে কীভাবে দিব্যি বসবাস করছিলা রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষিত দল আরসার প্রধান !

এইসব আলোচনার মধ্যেই বিশ্বের নামজাদা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও খ্যাতনামা লেখক মাইকেল রুবিন যেন বোমা ফাটালেন ! ১৮ মার্চে লেখা একটি প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এবং মধ্যপ্রাচ্য ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত রুবিন, ওয়াশিংটন এক্সামিনারে প্রকাশিত তার লেখায় প্রশ্ন তুলেছেন— বাংলাদেশ কি ইসলামি সন্ত্রাসীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং ইসলামপন্থী রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিণত হচ্ছে? বাংলাদেশ কি আরেক আফগানিস্তানে পরিণত হচ্ছে?  
 

রুবিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মাধ্যমে শেখ হাসিনা পদত্যাগে বাধ্য হন। তিনি উল্লেখ করেন- শেখ হাসিনার পতনের পর, হেফাজত-ই-ইসলামের মতো সংগঠনের সমর্থনে কেফায়েত-ই-মজলিস, আল্লাহর দল এবং আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশের মতো দলগুলো ইসলামিক আইনের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। যারা খিলাফতে বিশ্বাস করে। তাছাড়া জিএমবিসহ বেশ কিছু  দল- বাংলাদেশ ও ভারতে আক্রমণ করার প্রস্ততি নিচ্ছে !  

রুবিন সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ এখন সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন, যা ২০০০ সালে আফগানিস্তান ছিল। তিনি দাবি করেন, একটি ইসলামি গোষ্ঠি  নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে সন্ত্রাস ছড়াতে পেরেছিলেন, কারণ মার্কিন প্রশাসন সেটি প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছিল। তেমনই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর না দিলে এটি ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদীদের জন্য একটি নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

কেন বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়েও বিপজ্জনক অবস্থানে আছে সেটাও বাতলে দিয়েছেন রুবিন। তার মতে- বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নির্মূল করা পাহাড়ি গুহার চেয়ে কঠিন হতে পারে। আফগানিস্তান স্থলবেষ্টিত দেশ হলেও, বাংলাদেশের সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারতের সীমানায় অবস্থিত। বাংলাদেশে ভারতবিদ্বেষী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে তা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।   এ কারণে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। 

মাইকেল রুবিনের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে,যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক না হয় তাহলে দেশটি একটি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে।  তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা শক্তিগুলোর এখনই বাংলাদেশ পরিস্থিতির দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত, নতুবা এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। প্রবন্ধে তিনি ইউনূস সরকারের বেশ সমালোচনাও করেছেন। এবং সুক্ষভাবে প্রশংসা করেছেন শেখ হাসিনার !  

রবিনের এসব মন্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই তাকে তুলসী গ্যাবার্ডের আরেক ভার্সন হিসেবে মন্তব্য করেছেন ! বলছেন- বাংলাদেশকে সাবধান করতে নয় বরং বাংলাদেশকে আরও অশান্ত করেতেই চারদিকে চলছে এত আয়োজন ! বিলিয়ন- বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে গত ১৬ বছরে। হাসিনার দেশত্যাগের ৮ মাস পর সে টাকা এখন কথা বলতে শুরু করেছে ! সামনে এমন পরিস্থিতি আরও মোকাবেলা করা হতে পারে বলে সরকারকে সতর্ক থাকারও আহবান জানিয়েছেন অনেকে।

All Categories