‘বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছেড়ে জামাইকে নিয়ে আসব’
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তার স্ত্রী তামান্না শারমিনের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তামান্না শারমিন বলেন, ‘‘আমরা কাঁড়ি কাঁড়ি, বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছেড়ে আমার জামাইকে (স্বামী) নিয়ে আসব। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমার জামাই গতকাল (শনিবার) রাতে গ্রেপ্তার হয়েছে, এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মামলা যখন আছে, গ্রেপ্তার হবেই। আপনারা যারা ভাবছেন, আর কোনো দিন জামিন পাবে না, তাঁদের জন্য এক বালতি সমবেদনা।’’ প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এতদিন আমরা পলাতক ছিলাম, এখন তোমাদের পলাতক থাকার পালা শুরু। খেলা শুরু হবে এখন।’’
গত ১৫ মার্চ রাতে ঢাকার একটি শপিং মলে ঘোরাঘুরি করার সময় তেজগাঁও থানা–পুলিশ সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। এর পরদিন, সাজ্জাদ তার ফেসবুক লাইভে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে হুমকি দিয়েছিলেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ‘‘সাজ্জাদ হোসেনের মতো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী যাতে সহজে জামিন পেয়ে মুক্তি না পায়, সে জন্য আমরা সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি। গ্রেপ্তারের পর তাকে চান্দগাঁও থানার একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়, এবং আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পরবর্তীতে অন্যান্য মামলায়ও রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’’
পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ হোসেন ছিলেন ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত বিদেশে পলাতক আরেক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। গত বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে তিন বালু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার মামলার আসামি তিনি।
সাজ্জাদ হোসেনের অপরাধী জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা মধ্যে রয়েছে, ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা–পুলিশ তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করলেও পরের মাসে জামিনে মুক্তি পেয়ে যান। একই বছর ৪ ডিসেম্বর, নগরের অক্সিজেন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি গুলির ঘটনায় তিনি আহত হন, এতে পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ আহত হন।
এই ঘটনায় তার স্ত্রী তামান্না শারমিনের হুমকি ও বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।