বাজেটে শেয়ারবাজারে তিন সুখবর
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করতে দেওয়া হয়েছে একাধিক প্রণোদনা।
সোমবার বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাজেট উপস্থাপন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সেখানে তিনি শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কর সুবিধার ঘোষণা দেন, যা ইতিমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্টক ব্রোকারেজ কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শেয়ার লেনদেনের টার্নওভারের ওপর উৎসে কর (TDS) হার কমিয়ে আনা হচ্ছে। বিদ্যমান ০.০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে তা ০.০৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থ উপদেষ্টা।
অর্থ উপদেষ্টা তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘পুঁজিবাজারের বিকাশে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তাদের করপোরেট কর হার ৩৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতি আরও উৎসাহ দিতে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে তাদের করপোরেট করের ব্যবধান বাড়িয়ে সাড়ে সাত শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে এ ব্যবধান ছিল ৫ শতাংশ। এর ফলে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আসার আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘ভালো পারফরম্যান্স করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে হবে।
এর বাইরে গত সপ্তাহে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সুবিধাভোগী মালিকানার (BO) অ্যাকাউন্টের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি ৪৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাজেট ঘোষণায় পাওয়া এই প্রণোদনাগুলো শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নীতিগত ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ও জরুরি বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।