আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও জামিনে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায়ই রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল করছেন। জামিন পেয়ে অনেক নেতাকর্মী আবার এসব মিছিলে যুক্ত হচ্ছেন। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল জোরদার এবং গ্রেপ্তারে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক–সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজধানীতে যত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৪১ শতাংশ জামিন পেয়েছেন। ঢাকার বাইরে এই হার ৬১ শতাংশ। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অনেকে গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে পাঠানো হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিন পেয়ে আবার মিছিলে যুক্ত হচ্ছেন। কেন সহজে জামিন মিলছে, তা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকে ঢাকার সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের জন্য দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবি তুলেছেন। তা না হলে বড় কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। বৈঠকে একজন কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা পরিষ্কার করা জরুরি। দেরি হলে তার কারণও জানাতে হবে।
প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। শিক্ষকরা কলেজগুলোর কাঠামো পরিবর্তন বা আলাদা ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবার এ বিষয়ে বিভক্ত মত রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ইসলামী দল সম্প্রতি বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে। বৈঠকে এসব কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, তাৎক্ষণিকভাবে এসব কর্মসূচিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে না। তবে বিএনপি পাল্টা কর্মসূচি দিলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে করতে করণীয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বছর পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটিতে অনেক নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে। যাতে দ্বন্দ্ব–সংঘাত না হয়, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত পূজামণ্ডপ ঘিরে ১৩টি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচটি কমিটি বা জায়গা নিয়ে বিরোধ থেকে হয়েছে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এবারের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক মণ্ডপে মোতায়েন করা হবে।
উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি মাদকের পরিবর্তে চাল, সার ও ওষুধ পাচার হচ্ছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা হয়ে সাগরপথে এসব পাচার হচ্ছে। এটি ঠেকাতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেমন দু–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, তেমন কিছু না ঘটাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।