আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আড়ালে সাজানো নাটক চলছে: মির্জা আব্বাস
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পেছনে সাজানো নাটকীয়তা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। পাশাপাশি ‘মানবিক করিডর’ প্রসঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস।
আলোচনায় তিনি বলেন, ‘নাসির উদ্দিনদের মতো হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই আজকের বিএনপি গড়ে উঠেছে।’ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে চলমান আন্দোলনকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অতীতে কোনো অপকর্মের আগে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে নানা কৌশল নিয়েছেন, এটাও তেমনই এক কৌশল।
বিএনপি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিরোধিতা না করলেও তাদের হেয় করতেই এই ধরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন আব্বাস। বলেন, একটি অজনপ্রিয় দল বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য এই নাটক করছে।
ডিএমপির নিষিদ্ধ এলাকায় এনসিপির বিক্ষোভ ও মানবিক করিডর ইস্যুতে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বের কোনো অভিধানে মানবিক করিডর বলে কিছু নেই। প্রয়োজনে বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া এই সরকার কোনো করিডর দেওয়ার অধিকার রাখে না।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনে বিএনপি নিধন করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থিদের বসানো হচ্ছে। অনেক উপদেষ্টা আছেন যারা এই দেশের নাগরিকও নন, অথচ তাঁরাই দেশ চালাচ্ছেন। যেন নতুন কোনো ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মির্জা আব্বাস। বলেন, তিনি ভিআইপি ট্রিটমেন্ট নিয়ে দেশ ছাড়লেন, অথচ সরকার কিছুই জানে না। তাহলে সরকার কী জানে?
মানবিক করিডর ইস্যুতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের (চরমোনাই) নীরবতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, বিএনপি ছাড়া কেউ করিডর নিয়ে কথা বলছে না। জামায়াত, চরমোনাই সবাই চুপ। বিএনপিকে শেষ করতে পারলেই আওয়ামী লীগের মতো দেশ লুটপাটের সুযোগ পাবে, এই আশায় তারা মুখ বন্ধ করে রেখেছে।
নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক সাইদ হাসান মিন্টু। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ওলামা দলের মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হকসহ অনেকে।