আমি তোমাদেরই লোক: আবুল হায়াত
সাত দশকের অভিনয়জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা’ পেয়েছেন দেশের বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত। শুক্রবার (২৪ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন অভিনেত্রী দিলারা জামান। স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী উত্তরীয় পরিয়ে দেন আবুল হায়াতকে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক।
সম্মাননা গ্রহণ করে আবুল হায়াত বলেন, এই পুরস্কার শুধু আমার নয়, এটা তাদেরও, যারা আমার মাধ্যমে কখনো চরিত্র হয়ে উঠেছিল, জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। আমি অভিনয়ের পর হয়তো নিজের রূপে ফিরে যাই, কিন্তু আমার সঙ্গে ফিরে যায় সেইসব চরিত্র, যারা আমার রক্ত–মাংসে মিশে যায়।
দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের দর্শকেরা আমাকে আজীবন ভালোবেসেছেন। আমি চেষ্টা করেছি তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে। তাঁদের ভালোবাসা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

তিনি কৃতজ্ঞতা জানান নাট্যকার, পরিচালক, সহশিল্পী, মেকআপ শিল্পী ও প্রযোজকদের প্রতি। বলেন, তাঁদের সহায়তা ও ভালোবাসা ছাড়া আমি আজ এখানে পৌঁছাতে পারতাম না।
ব্যক্তিগত জীবনের অনুপ্রেরণার জায়গায় পরিবারের কথা উল্লেখ করে আবুল হায়াত বলেন, আমার মা–বাবা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন এই পথ চলায়। আর আমার স্ত্রী শিরী—তুমি না থাকলে এই সফলতা অসম্ভব ছিল। আজকের এই সম্মাননা তোমার প্রাপ্যও।
অনুষ্ঠানে আবুল হায়াত বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়—ভালোবাসা আর শিল্পই জীবনের একমাত্র সত্য।
১৯৬৮ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ‘ইডিপাস’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিষেক ঘটে আবুল হায়াতের। ১৯৭২ সালে অভিনয় করেন ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্র ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এ। এরপর থেকে টেলিভিশন, মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন—সব মাধ্যমেই তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র।
মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা দেওয়া শুরু হয় ২০০২ সালে। এ পর্যন্ত ২৩ জন গুণী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। গত বছর এই সম্মাননায় ভূষিত হন প্রয়াত অভিনেতা মাসুদ আলী খান।