আমেরিকার হামলার পরই পাল্টা জবাব ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালানোর পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে তেহরান। রোববার সকালে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হামলায় রাজধানী তেল আবিবসহ অন্তত কয়েকটি শহরে ভবন ধসে পড়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন।

আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। হামলার পর দেশজুড়ে বাজতে শুরু করে বিপদসংকেতের সাইরেন। নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে ইরানও।

ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ) জানিয়েছে, তেল আবিবে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে বলেও দাবি তাদের। হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি, যদিও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় হাফিফা শহরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট কাজ করছে।

এর আগে শনিবার (স্থানীয় সময়) রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিযান সফল হয়েছে। বর্তমানে সব মার্কিন বিমান ইরানের আকাশসীমার বাইরে অবস্থান করছে।

এই হামলার পর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। যদিও ইরান বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি, তবে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

চলমান উত্তেজনার মূল কেন্দ্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের একটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালায়। ওই হামলায় দেশটির নয়জন পরমাণু বিজ্ঞানী এবং কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর থেকেই ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল।

ইসরায়েল বরাবরই দাবি করে আসছে, ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকলে তা হবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অন্যদিকে ইরান বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ গবেষণার জন্যই পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র এ সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগে জানিয়েছিলেন, ইরানে হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

All Categories