আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় ঐকমত্য সম্ভব : আলী রীয়াজ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান আলী রীয়াজ মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করে আলোচনা মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় ঐকমত্য গঠন করা সম্ভব। তিনি শনিবার (২২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন।
আলী রীয়াজ বলেন,রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও মতপার্থক্য থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রেই একই ধরনের মতামত উঠে আসে। আমরা সবার মতামত শুনে, আশা করছি সংলাপের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খেলাফত মজলিস অংশগ্রহণ করছে। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করেছি এবং বেশি সময় দিতে পারিনি, তবে তারা যে আন্তরিকতার সঙ্গে মতামত দিয়েছে, তার ভিত্তিতে আমাদের আলোচনা চলতে থাকবে।
আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন, সংলাপ শুধু একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও অন্তর্ভুক্ত হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এর সঙ্গে প্রথম সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কার আনা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য ৬টি কমিশন গঠন করা হয়।
ফেব্রুয়ারি মাসে এই ৬টি কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং কমিশনের প্রধানদের নিয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।