আজ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন—ইসরায়েলকে দেওয়া শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে তেল আবিব, একই সঙ্গে গাজার মানবিক পরিস্থিতি গত কয়েক সপ্তাহে নাটকীয়ভাবে অবনতি ঘটেছে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হামাসের হাতে জিম্মিদের স্বজনদের আপত্তি সত্ত্বেও এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন তিনি।

স্টারমার গত জুলাইয়ে সতর্ক করেছিলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। জাতিসংঘের এ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর।

যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকটের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে নতুন করে বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে প্রায় শূন্য করে দিয়েছে। ব্রিটিশ উপ–প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, “ই-ওয়ান প্রকল্পের মতো বসতি সম্প্রসারণ কার্যকর হলে দুই রাষ্ট্র সমাধানের পথ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।”

লেবার পার্টি জোর দিয়ে বলেছে, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা নয়। বরং গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা না থাকায় গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। খুব শিগগিরই হামাসের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতিও চলছে।

তবে এ সিদ্ধান্তে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ৪৮ জনের পরিবারের পক্ষ থেকে স্টারমারের কাছে খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই ঘোষণায় প্রিয়জনদের মুক্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ছে। চিঠিতে বলা হয়, হামাস ইতিমধ্যেই এ সিদ্ধান্তকে বিজয় হিসেবে উদ্‌যাপন করেছে এবং আগের চুক্তি ভঙ্গ করেছে।

বিরোধী কনজারভেটিভ দলও এ সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করেছে। ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল অভিযোগ করেছেন, লেবার পার্টির ব্যাকবেঞ্চারদের চাপের মুখে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছেন স্টারমার।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা আরও বাড়িয়েছে। শুধু গতকাল শনিবার উপত্যকাজুড়ে ৯১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, এখন পর্যন্ত ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

All Categories