আজ চালু হচ্ছে তৃতীয় তিস্তা সড়ক সেতু
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের। আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত তৃতীয় তিস্তা সড়ক সেতু।
প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ (১.৪৯ কিমি) এই সেতুটি কুড়িগ্রামের চিলমারী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের মানুষের স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নির্মিত এ সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা এবং সংযোগ সড়ক ও নদীশাসনে আরও খরচ হয়েছে ৩৬৪ কোটি টাকা।
তিস্তা নদীর ওপর এটি হলো তৃতীয় সড়ক সেতু, তবে দৈর্ঘ্যে সবচেয়ে বড়। এর আগে ২০১২ সালে লালমনিরহাটের গোকুন্ডায় ও ২০১৮ সালে রংপুরের মহিপুরে দুটি সেতু নির্মিত হয়।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ইফাদের অর্থায়নে ও চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়। বারবার সময়সীমা পিছিয়ে অবশেষে চলতি আগস্টে প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়।
সেতুটি চালু হলে ঢাকার দূরত্ব ৯০-১০০ কিলোমিটার কমবে। এতে যাতায়াত সহজ হবে, সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে এবং সোনাহাট স্থলবন্দর ও চিলমারী নদীবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
স্থানীয় কৃষক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সেতু তাদের জীবনমান পাল্টে দেবে, জমির দাম বাড়াবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সেতু চালু হওয়া শুধু অবকাঠামো নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের মানুষের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রতীক।”