আজ ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন অর্থ উপদেষ্টা

নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট আজ ঘোষণা করবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হবে বাজেট বক্তৃতা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি এই বাজেটকে ছোট বলব না, তবে এটিকে বাস্তবায়নযোগ্য ও সময়োপযোগী বলব। মুদ্রাস্ফীতি, রাজস্ব আহরণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বাণিজ্যসহ সব বিষয় বিবেচনায় রেখেই বাজেট তৈরি করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এই ঘাটতি পূরণে সরকার বিদেশি ঋণ, ব্যাংক ঋণ ও সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করবে।

নতুন অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৫ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের চেয়ে এটি ৩৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অগ্রাধিকার পাবে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, কর পরিপালন ঘাটতি কমানো ও ভ্যাট ব্যবস্থার সরলীকরণ। সম্পূরক শুল্কের হার যৌক্তিক করতে আইন সংশোধনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ করা হবে। বাড়তে পারে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ।

রাজস্ব বাজেটের প্রায় ৫৭ শতাংশ যাবে বেতন-ভাতা, ভর্তুকি ও ঋণ পরিশোধে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।

ভর্তুকি বাবদ ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। কেবল বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ হতে পারে ৮২ হাজার কোটি টাকা।

উন্নয়ন বাজেট ৩৫ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

তবে বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন কোনো মেগা প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না, কেবল মাতারবাড়ি উন্নয়ন প্রকল্প চলবে। এটি জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন।

সরকার উচ্চ সুদের ঋণ না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

নতুন বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ৫ দশমিক ২৫ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি।

সরকার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এমন কোনো ব্যয় রাখা হচ্ছে না, যা অস্থায়ী জনপ্রিয়তা তৈরি করলেও ভবিষ্যতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বাজেটে সংস্কার কমিশন ও টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এই বাজেট হবে ব্যবসা-বান্ধব ও বিনিয়োগে সহায়ক। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে করনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হবে।

 বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো

বাজেটের আকার: ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি: ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৯৫%) রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা: ৫ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা্মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা: ৬.৫%। জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা: ৫.৫%। এডিপি বরাদ্দ: ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।নতুন মেগা প্রকল্প: নেই। সামাজিক নিরাপত্তা: সুবিধাভোগী ও ভাতা—উভয়ই বাড়বে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মহলে যেমন কৌতূহল, তেমনি রয়েছে বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্নও। তবে অর্থ উপদেষ্টা আশাবাদী, এই বাজেট অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা ও স্থায়িত্বের পথে নিয়ে যাবে।

All Categories