আজ ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস
গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন ঘটে তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ (এইচ এম) এরশাদের। এই দিনে তিনি অস্থায়ী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর মধ্য দিয়ে অবসান হয় তাঁর প্রায় নয় বছরের শাসনের, পুনরুদ্ধার হয় গণতান্ত্রিক চলার পথ।
১৯৮০-এর দশকের পুরো সময়জুড়েই এরশাদবিরোধী আন্দোলন ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে। ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, রাজনৈতিক দল—সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তি এক দফায় এসে দাঁড়ায় ‘স্বৈরাচার পতনের’ দাবিতে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ওয়ার্কার্স পার্টি-জাসদ নেতৃত্বাধীন জোট ১৯৯০ সালের ২১ নভেম্বর যৌথভাবে একটি রূপরেখা ঘোষণা করে। কোনো জোটে না থাকলেও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে জামায়াতে ইসলামী।
দীর্ঘ টানা আন্দোলন ও তিন জোটের রূপরেখার চাপে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ। এই আন্দোলনে প্রাণ দেন নূর হোসেন, ডা. মিলন, সেলিম, দেলোয়ার, তাজুলসহ অসংখ্য মানুষ। তাঁদের আত্মত্যাগেই উন্মুক্ত হয় স্বৈরশাসনবিরোধী সংগ্রামের বিজয়ের পথ।
এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন। প্রায় আট বছর পর গণআন্দোলনের উত্তাপে তাঁর শাসন ভেঙে পড়ে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ মারা যান।