আইবিএস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এই ৫ খাবার
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) দীর্ঘমেয়াদি হজমজনিত একটি জটিলতা। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই পেটফাঁপা, অস্বস্তি ও বদহজমের মতো উপসর্গে ভোগেন। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় দেখা দেয় নানা অসুবিধা। তবে চিকিৎসকদের মতে, সুষম ও হজমবান্ধব খাবার গ্রহণ করলে আইবিএসের উপসর্গ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হজম ভালো থাকলে আইবিএসের প্রকোপ অনেকটাই কমে যায়। তাই এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো সহজে হজম হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি থেকে উপশম এনে দিতে পারে। নিচে তুলে ধরা হলো পাঁচটি উপকারী খাবার, যেগুলো নিয়মিত খেলে উপকার মিলতে পারে:
১. খোসা ছাড়ানো সেদ্ধ গাজর
কাঁচা গাজর শক্ত হওয়ায় অনেক সময় হজমে সমস্যা হয়। তবে খোসা ছাড়িয়ে হালকা সেদ্ধ করে খেলে গাজরের ফাইবার সহজেই হজম হয় এবং হজমপ্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও শরীরের উপকারে আসে।
২. শশা ও কুমড়োর বীজ
গ্রীষ্মের এই সময় হজমশক্তি ঠিক রাখতে শশা খাওয়া বেশ উপকারী। ঠান্ডা প্রকৃতির এই ফল পেটকে আরাম দেয়। এর সঙ্গে অল্প পরিমাণে কুমড়োর বীজ খেলে মেলে বাড়তি উপকার। কুমড়োর বীজে থাকা ম্যাগনেশিয়াম পেটের ব্যথা উপশমে সহায়ক।
৩. পাকা কলা
হজমে সহায়ক ফলের তালিকায় উপরের সারিতে রয়েছে কলা। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার ও খনিজ উপাদান হজম শক্তি বাড়ায়। তবে অতিরিক্ত পেকে যাওয়া কলা খেলে উল্টো হজমে সমস্যা হতে পারে, তাই পরিমাণমতো গ্রহণই শ্রেয়।
৪. ইয়োগার্ট ও কাঠবাদাম
দুধ হজমে সমস্যা হয় অনেক আইবিএস আক্রান্তেরই। সে ক্ষেত্রে ল্যাকটোজ-মুক্ত ইয়োগার্ট একটি ভালো বিকল্প। এর সঙ্গে কাঠবাদাম মিশিয়ে খেলে প্রোবায়োটিক ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদানের মাধ্যমে হজমের উন্নতি ঘটে।
৫. ডার্ক চকোলেট
সাধারণ চকোলেট অনেক সময় হজমে সমস্যার সৃষ্টি করে। তবে নির্দিষ্ট মাত্রায় ৭৫ শতাংশ কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেট খাওয়া যেতে পারে। এটি হজমে সহায়ক, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় কিছুটা পরিবর্তন এবং সচেতনতা এনে এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে সমস্যা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।