আগস্টের শুরুতেই আসতে পারে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ওই ভাষণেই নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সূত্র বলছে, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসিকে এ–সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বহু প্রতীক্ষিত ‘জুলাই সনদ’ আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
রোববার সকালে দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সোমবারের মধ্যেই সনদের খসড়া দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। এরপর একটি দিন নির্ধারণ করে সই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
তিনি জানান, খসড়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংলাপ হবে না। তবে যদি বড় ধরনের মৌলিক আপত্তি ওঠে, তখন আলোচনা হতে পারে। খসড়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পটভূমি ও মৌলিক অঙ্গীকার সংযোজন করা হয়েছে।
গত ১৩ জুন লন্ডনে অধ্যাপক ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে বলা হয়, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে পারে। তবে সে সময় সংস্কার ও বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকার শর্তও দেওয়া হয়েছিল।
তবে এরপর সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিএনপির মধ্যে সংশয় তৈরি হয়। বিশেষ করে ইসিকে এখনও কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হওয়ায় বিএনপি আরও সতর্ক হয়ে ওঠে।
সর্বশেষ ২২ জুলাই থেকে তিন দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন অধ্যাপক ইউনূস। এর মধ্যে ২৬ জুলাই তিনি ১৪টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী চার–পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের সময়সীমা ও তারিখ ঘোষণা করবেন।”
তবে ওই বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখের উল্লেখ ছিল না। সেখানে বলা হয়, কিছু ‘পতিত শক্তি’ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে এবং সব ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিএনপি নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা দুই–চার দিনের মধ্যে যদি নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেন, খুশিই হব। কারণ, এটাই তো আমাদের দাবি।”
তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, “সংস্কার ও গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান না করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে তা হবে জুলাই চেতনাকে উপেক্ষা করা।”
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “৫ আগস্টের মধ্যে যদি জুলাই সনদ চূড়ান্ত হয়, তাহলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে আমাদের আপত্তি থাকবে না।”
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতে, জুলাই সনদের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য আগেভাগেই নির্বাচনের রূপরেখা দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আশ্বস্ত করতে চাইছে সরকার।