আবারও বিভক্তির পথে জাতীয় পার্টি?

প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা সময়ে নেতৃত্ব সংকটে ভাঙনের মুখে পড়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি (জাপা)। এবারও দলটির নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ আদালতে গড়িয়েছে, আর ষষ্ঠবারের মতো ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জাপা এরশাদের জীবদ্দশায় চারবার বিভক্ত হয়। ২০১৯ সালে জি এম কাদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর একবার ভাঙে দলটি। এবার বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু জি এম কাদেরকে ঘিরে।

দলটির চেয়ারম্যানের বিরোধীরা আজ শনিবার (৮ আগস্ট) জাপার নামে একটি কাউন্সিল আয়োজন করছে। তবে জি এম কাদের নিযুক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এ কাউন্সিলকে অবৈধ বলেছেন।

এর আগে গত বছরের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর রওশন এরশাদের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা একই নামে দল গঠন করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর জি এম কাদের অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করলেও, অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের আপত্তিতে সরকারি বৈঠকে জাপাকে ডাকা বন্ধ হয়। ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে দলীয় কার্যালয় ও কর্মসূচিতে হামলাও হয়। পরবর্তীতে জি এম কাদের সরকারের সমালোচক হিসেবে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন।

এ সময় আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত জাপার একাংশ গঠনতন্ত্রের ২০(১) “ক” ধারা সংশোধনের দাবি তোলে। গত মে মাসে দলের প্রেসিডিয়ামে ২৮ জুন কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত হলেও, চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে জি এম কাদের তা স্থগিত করেন।

এরপর চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব পদে প্রার্থী হতে চাওয়া রুহুল আমিন হাওলাদার এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ কয়েকজনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেন জি এম কাদের। আরও চার প্রেসিডিয়াম সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়। এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ১০ নেতা মামলা করলে আদালত জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন থেকে সাময়িক বিরত থাকতে নির্দেশ দেন।

এই প্রেক্ষাপটে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করে আজকের কাউন্সিল ডাকেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিভেদ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নবযাত্রা করবে জাপা। এটি আদালতের আদেশ ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।’

হাসিনা সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় ২০(২) (খ) ধারার ক্ষমতাবলে ৫ আগস্ট প্রেসিডিয়াম সভা করে সর্বসম্মতিতে কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

All Categories