৫ আগস্ট সংসদ ভবনে স্পিকারসহ ১২ জন অবস্থান করতে বাধ্য হই,আদালতে বললেন পলক
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ মোট ১২ জন জাতীয় সংসদ ভবনের একটি কক্ষে লুকিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন পলক।
আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় পলক আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, ‘মামলার ঘটনার যে তারিখ ও সময় বলা হচ্ছে, সে সময় আমি স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারসহ ১২ জন ব্যক্তি সংসদ ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। সেদিন সংসদ ভবন আক্রান্ত হয়, পরে সেনাবাহিনী এসে আমাদের উদ্ধার করে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমি ন্যায়বিচার চাই।
পলক আরও বলেন, ‘আমাকে জেলগেটেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। আমি কোনো অপরাধ করিনি। জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করুন।
এদিন সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিকালে প্রসিকিউটর ফারুকী বলেন, ‘তিনি (পলক) স্বীকার করেছেন যে, ঘটনার সময় তিনি পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। শিরীন শারমিনও ছিলেন সেখানে। তাকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নাটকীয় মোড় নেয়। দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে ওঠে ছাত্র ও জনসাধারণ। আন্দোলনের তীব্রতায় খবর আসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেছেন। এরপরই হাজারো মানুষ ভেঙে ফেলে গণভবনের দেয়াল, সংসদ ভবন ঘিরে ফেলে জনতার ঢল।
তৎকালীন সংসদ অধিবেশন যেখানে বসত, সেই কক্ষে গিয়ে অনেকে ফটোসেশন করেন। ঠিক সেই সময়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংসদ ভবনের এক কক্ষে লুকিয়ে ছিলেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু ও জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আরও ১২ জন। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল তাদের উদ্ধার করে।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন সময় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ৬ ফেব্রুয়ারি বর্তমান মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অন্যদিকে, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিভিন্ন মামলার আসামি হলেও এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তিনি দেশে আছেন, না কি বিদেশে- সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অনেকের ধারণা, তিনি দেশেই অবস্থান করছেন এবং কোনো প্রভাবশালী মহলের নিরাপত্তায় রয়েছেন।