৩১ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতির আওতায় ৩১ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল রোববার পর্যন্ত এসব বাংলাদেশিকে ঢাকায় ফেরত আনা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও একজন নারী। তাঁরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় সাজাও হয়েছিল।
গত শনিবার একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঁচজন বাংলাদেশিকে ঢাকায় আনা হয়। ওই ফ্লাইটটি নেপাল হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বাকি ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময়ে সাধারণ ও চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে এসকর্ট করে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিভাগ।
নোয়াখালীর বাসিন্দা শাহাদত হোসেন জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদন না মঞ্জুর হওয়ায় গত ৯ মার্চ তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে এমিরেটসের ফ্লাইটে তুলে দেয়। কোনো খারাপ ব্যবহার করেনি, হাতকড়া পরানো হয়নি। আমি সাধারণ যাত্রীর মতোই এসেছি।
পুলিশের বিশেষ শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্মানের সঙ্গে ফেরত পাঠানোর জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে শুরু থেকেই জোরালো প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। তিনি জানান, অনেক দেশের নাগরিকদের সামরিক বিমানে করে ফেরত পাঠানো হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
সরকারি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে কত বাংলাদেশি অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তা নির্ধারিতভাবে জানা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগ থেকে যাঁদের তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের তালিকা আগেই বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে তাঁদের বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, বিদেশ থেকে ফেরত আসা অভিবাসীদের সহায়তায় ব্র্যাক কাজ করে। বিমানবন্দরে সহযোগিতার পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও সরকার চাইলে ব্র্যাক সহায়তা দেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহেও পুলিশের বিশেষ শাখার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সরকারি সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এই প্রক্রিয়া তদারক করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পর ২৯ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর থেকে পর্যায়ক্রমে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো শুরু হয়।
এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে এলো।