২৬ বাংলাদেশি নিয়ে লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, চারজনের মৃত্যু

লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবাই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।

বৃহস্পতিবার রাতে উপকূলীয় শহর আল-খোমসের কাছে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। রেড ক্রিসেন্টের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দুটি নৌকার যাত্রীদের বেশির ভাগই ইউরোপমুখী অভিবাসী ছিলেন।

সংস্থাটি জানায়, ডুবে যাওয়া প্রথম নৌকাটিতে ছিলেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ২৬ জন। তাঁদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় নৌকাটিতে ছিলেন ৬৯ জন অভিবাসী যাদের মধ্যে দুজন মিশরীয় ও বেশ কয়েকজন সুদানি নাগরিক। তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। ওই নৌকায় আট শিশু ছিল বলেও জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।

সংস্থাটি দুর্ঘটনার পর উদ্ধারের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। একটি ছবিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা মরদেহগুলোর কালো ব্যাগ দেখা গেছে। আরেকটি ছবিতে উদ্ধার হওয়া মানুষদের কম্বল জড়িয়ে প্রাথমিক সেবা দিতে দেখা যায় স্বেচ্ছাসেবীদের।

ঘটনার পর লিবিয়ার কোস্টগার্ড ও আল-খোমস বন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। শহরের পাবলিক প্রসিকিউশনের নির্দেশে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।

ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার দূরে আল-খোমস উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপগামী অবৈধ অভিবাসীদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে নেটো–সমর্থিত গণবিক্ষোভে মোয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে দিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে লিবিয়ার উপকূল ব্যবহার করে হাজারো মানুষ।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ সপ্তাহের শুরুতে জানায়, আল বুরি তেলক্ষেত্রের কাছে একটি রাবারের নৌকা ডুবে অন্তত ৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা মারা গেছেন।

গত অক্টোবরেও ত্রিপোলির পশ্চিম উপকূলে উদ্ধার করা হয় ৬১ জন অভিবাসীর মরদেহ। এর এক মাস আগে সেপ্টেম্বরে সুদানি শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকায় আগুন ধরে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়।

অভিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সম্প্রতি জেনেভায় জাতিসংঘের এক বৈঠকে যুক্তরাজ্য, স্পেন, নরওয়ে ও সিয়েরা লিওন লিবিয়াকে তাদের আটককেন্দ্রগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব কেন্দ্রে নির্যাতন, সহিংসতা ও হত্যার অভিযোগ করে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা

All Categories