২৩ ঘণ্টায়ও নেভেনি রূপনগরের আগুন, পোশাক কারখানায় মিলেছে ১৬ মরদেহ

রাজধানীর রূপনগরের শিয়ালবাড়ী এলাকায় রাসায়নিকের গুদামে লাগা আগুন ২৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি নেভানো যায়নি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার কিছু পরে আগুনের সূত্রপাত হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায়ও গুদাম থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

একই সময়ে আগুন লাগে গুদামের বিপরীত পাশের চারতলা একটি পোশাক কারখানায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মঙ্গলবারই সে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই ভবন থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কারও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে সেগুলো পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

রাত থেকেই সেখানে ভিড় করছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা। বুধবার সকাল পর্যন্ত অনেকে মরদেহ দেখে নিজের স্বজন বলে দাবি করেছেন। তবে দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার আগে সঠিকভাবে কারও পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে না।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, রাসায়নিকের গুদামের আগুন এখনও সম্পূর্ণ নিভেনি। ঠিক কত সময় লাগবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমাদের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল জলিল বলেন, রাসায়নিক গুদামেই প্রথম আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুনের শিখা আতশবাজির মতো উপরে উঠে যায়। তারপর সেই আগুনের কুণ্ডলী পাশের পোশাক কারখানার ভবনে গিয়ে পড়ে। ভবনের ভেতরে আগুন লাগলেও প্রথমে কেউ বুঝতে পারেনি। তাই অনেকে বেরোতে পারেননি।

চারতলা ওই ভবনের নিচতলায় অ্যামব্রয়ডারি কারখানা, দোতলায় স্ক্রিনপ্রিন্ট কারখানা, তৃতীয় তলায় গার্মেন্টস এবং চতুর্থ তলায় গার্মেন্টসের গুদাম ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে রাসায়নিক গুদামের মালিক শাহ আলম ঘটনার পর থেকেই পলাতক। স্থানীয়দের দাবি, তার মালিকানায় এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি গুদাম রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

All Categories