১২ কিলোমিটার হেঁটে ত্রাণ নেয় ঠিকই, কিন্তু ফেরা আর হয় না শিশুটির
মাত্র ৮ বছরের শিশু আমির। গায়ে ছেঁড়া জামা, পায়ে কোনও জুতা নেই। তবু ১২ কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছেছিল দক্ষিণ গাজার এক ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে, একটুখানি খাবারের আশায়।
কিন্তু সেই ছোট্ট জীবনটিও শেষরক্ষা পায়নি। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় আমির। এই নির্মম ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা অ্যান্টনি আগুইলার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত বিতর্কিত সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনে কাজ করতেন তিনি।
গত মাসেই সাবেক এ মার্কিন সেনা পদত্যাগ করেন ফাউন্ডেশন থেকে।
সোমবার ‘আনঅ্যাক্সেপ্টেবল’ নামের একটি পডকাস্টে তিনি শেয়ার করেন তার দেখা ভয়াবহ দৃশ্যগুলো।
তিনি বলেন, “ছোট্ট আমির খালি পায়ে, ছেঁড়া জামা পরে এসে দাঁড়ায় আমার সামনে। ওর হাড্ডিসার শরীরে কাপড়টুকু যেন ঝুলে ঝুলে পড়ছিল। খাবার পেয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরে, গালে হাত রাখে, চুমু দিয়ে বলে, ‘থ্যাংকিউ’। ওর সে স্পর্শ আজও আমার গায়ে লেগে আছে।”
তবে এই মুহূর্তের আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি বলেও জানান আগুইলার। কারণ, এরপরই ইসরায়েলি বাহিনী টিয়ার গ্যাস, মরিচের গুঁড়ার স্প্রে এবং স্টান গ্রেনেড ছুড়তে শুরু করায় আতঙ্কিত মানুষজন দৌড়াতে শুরু করে।
“আমিরও দৌড় দিতে গিয়েছিল,কিন্তু সে আর পেরে ওঠেনি। এই ঘটনায় শুধু আমির নয়, নিহত হন আরও বহু সাধারণ মানুষ, যারা এসেছিলেন শুধুই কিছু খাবারের আশায়,” বলেও জানান তিনি।
গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগের সময় আগুইলার স্পষ্টভাবে বলেন,“এই সহিংসতার অংশ হওয়া সম্ভব নয়। আমি সত্যকে আড়াল করতে পারি না।”
ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে আমিরের মৃত্যু আর আগুইলারের এই সাক্ষ্য বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় তুলেছে।