১০ম গ্রেড বাস্তবায়নে ‘শাটডাউন’ স্থগিত, অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন

১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে পূর্বঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত রেখে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।

এর আগে বুধবার সকালে চার ঘণ্টা এবং ৩০ নভেম্বর দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন তারা।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ চত্বরে কর্মবিরতিতে অংশ নেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাঈন উদ্দিন মঞ্জু। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খাজা মাঈন উদ্দিন মঞ্জু, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব সাইদুর রহমান সিদ্দিকী, বৈষম্যবিরোধী জাতীয় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পরিষদের মহাসচিব রিপন শিকদার, ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সিকদার জসিম উদ্দিনসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের টেকনোলোজিস্ট সেলিম রেজা, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের টেকনোলজিস্ট মো. সইবুর রহমান ও মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

আন্দোলননেতারা বলেন, টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের গ্রেড উন্নীতকরণের ফাইলটি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। ‘অজ্ঞাত কারণে’ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হচ্ছে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, দাপ্তরিক যোগাযোগ ও বিধি শাখার সব শর্ত পূরণ করেও ফাইল বিভিন্ন অজুহাতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তাদের দাবি, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা ইতোমধ্যে ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। অথচ একই যোগ্যতা ও একই ধরনের কাজ করেও টেকনোলজিস্ট–ফার্মাসিস্টদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, ৩০ বছর ধরে এই বৈষম্যের শিকার তারা।

নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’সহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ খোলা থাকবে।

অর্ধদিবস কর্মবিরতির কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রেডিওলোজি বিভাগ বন্ধ থাকায় এক্স–রে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বন্ধ থাকে। করিডোর ও বারান্দায় রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় ছিলেন। মেডিসিন স্টোরের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়।

রায়েরবাগ থেকে সন্তানকে নিয়ে আসা শিউলি বলেন, ‘সকালে এসে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি, তবুও সেবা পাই না। টেকনোলজিস্ট–ফার্মাসিস্টদের দাবি সরকারের কাছে—আমাদের কেন ভোগান্তি?’

এমন অভিযোগ করেন আরও কয়েকজন রোগী। তাদের কথা, হাসপাতালে এসে কেউ জানায় না কোন বিভাগ চালু, কোনটি বন্ধ। ফলে এক বিভাগের লাইনে দাঁড়ানোর পর অন্য বিভাগে আবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে বৃদ্ধ, শিশু ও আহত রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন; তবে সরকারের দ্রুত ইতিবাচক উদ্যোগই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে।

All Categories