ভূমিকম্পে সারা দেশে নিহত ৫, আহত তিন শতাধিক
সারা দেশে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুরান ঢাকায় তিনজন এবং নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে একজন করে মারা গেছেন। ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ধসে এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর পুরান ঢাকার কসাইটুলির কেপি ঘোষ স্ট্রিটের ২০/সি নম্বর ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে তিন পথচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরও ১০ জন।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ ছয়তলা ভবনের রেলিং ধসে পড়ে। নিচের গরুর মাংসের দোকানে থাকা ক্রেতা ও পথচারীরা এতে আহত হন। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সোহেল হোসেন বলেন, ভবন ধসেনি, তবে রেলিং ভেঙে পড়েছিল। এতে গুরুতর আহত তিনজনকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার জানান, ভবন ধসের খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে পলেস্তারার অংশ ও কিছু ইট খসে পড়ার ঘটনাই পাওয়া যায়। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়রা হাসপাতাল নিয়ে যান।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ভূমিকম্পের সময় মাটির দেয়াল ধসে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ছাদের কার্নিশ ধসে এবং অন্যান্য দুর্ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহতসহ ৪০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক নবজাতক ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শিশুটির মা ও এক প্রতিবেশী। তথ্যটি নিশ্চিত করেন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান।
গাজীপুরের শ্রীপুরে ভূমিকম্পের সময় একটি পোশাক কারখানা থেকে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে অন্তত তিন শতাধিক শ্রমিক আহত হন। শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার ডেনিমেক লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়, প্রাথমিক তথ্যে এর মাত্রা ৫ দশমিক ৭ এবং উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী বলে জানা গেছে।