ট্রাম্পের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরানে চলমান যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। এবার কংগ্রেসে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। প্রশ্ন ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক স্থিতি নিয়ে। আরো প্রশ্ন ওঠে ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া অসংযত পোস্ট নিয়ে।

এক পোস্টে তিনি 'পুরো সভ্যতাকে' ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন। ক্যাপিটল হিলে সেই শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সারা জ্যাকোবস সরাসরি প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প কি মানসিকভাবে এতটাই স্থিতিশীল, যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন? কিন্তু প্রশ্নের জবাবে সরাসরি হ্যাঁ বা না বলে হেগসেথ বিষয়টি ঘুরিয়ে দেন। তিনি উল্টো প্রশ্ন তোলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়েও কি একই ধরনের প্রশ্ন তোলা হয়েছিল কি না।

এই মন্তব্যেই শুনানির পরিবেশ আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।জ্যাকবস জবাব দেন, বাইডেন এখন প্রেসিডেন্ট নন, আর ট্রাম্প দায়িত্বে আছেন দেড় বছর ধরে। এরপর হেগসেথ ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, সর্বাধিনায়ককে ছোট করার এই আলোচনায় তিনি অংশ নিতে চান না। পরে তিনি ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট একজন 'অসাধারণ নেতৃত্বদানকারী', যিনি সেনাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই কংগ্রেসের শুনানিতে আরো একটি বড় বিষয় উঠে আসে, যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট।ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ সালের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বাজেট নিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের সশস্ত্র বাহিনী কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ বলেন, এই বিশাল বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে আধুনিক করবে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাতের জন্য দেশকে প্রস্তুত রাখবে। তার ভাষায়, দীর্ঘদিনের 'অবহেলা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা' ঠিক করতে এই অর্থ জরুরি। তিনি আরো জানান, নতুন সৈন্যদের বেতন ৭ শতাংশ বাড়ানো হবে এবং জরাজীর্ণ ব্যারাকগুলো পুরোপুরি সংস্কার করা হবে।

হেগসেথের মতে, আধুনিক অস্ত্র, শিল্প সক্ষমতা এবং সৈন্যদের কল্যাণ- এই তিন ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আনবে এই বাজেট। তিনি বলেন, দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ছাড়া কোনো দেশ দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা বজায় রাখতে পারে না।

অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তাপের আরেক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার। ইরান-সংকট নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই তিনি একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ পোস্ট দেন, যার কিছু গভীর রাতে প্রকাশ করা হয়। এক পোস্টে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন, ইরান তার দাবি না মানলে 'পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে', যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি নিজের একটি বিতর্কিত ছবিও পোস্ট করেন ট্রাম্প, যেখানে তাকে যিশু খ্রিস্টের মতো দেখা যাচ্ছিল। সমালোচনার মুখে পরে সেটি সরিয়ে নেন তিনি। আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিন বলেন, ওই ছবিতে তাকে ডাক্তারের মত দেখাচ্ছিল, যে মানুষের সেবা করছে। 

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ট্রাম্পের আচরণ, তার নেতৃত্বের ধরন এবং প্রতিরক্ষা নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।

All Categories