তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা
ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে তিস্তা তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।
রোববার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৭ মিটার, যা বিপৎসীমার চেয়ে ০ দশমিক ০২ মিটার (০.২ সেন্টিমিটার) বেশি। তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ পানি নিয়ন্ত্রণে সবগুলো—মোট ৪৪টি—জলকপাট খুলে দিয়েছে।
তিস্তা ব্যারাজের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে হঠাৎ পানি বেড়ে যায়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পানি বেড়ে যাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, সিঙ্গিমারী ও ধরলা তীরবর্তী অন্তত ৮ থেকে ১০টি চর প্লাবিত হয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, আদিতমারীর চর গোবর্ধন ও মহিষখোঁচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও পানি ঢুকে পড়েছে।
এদিকে চরাঞ্চলের অনেক ফসলি জমি ও আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছরই বর্ষায় পানি বাড়ে। তবে এবার তুলনামূলক দ্রুত পানি বাড়ায় তাঁরা বেশি শঙ্কিত। অনেকেই গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আপস্ট্রিম এলাকায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।