সরকারি চাকরির অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে আজও বিক্ষোভ

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে আজ রোববার (২২ জুন) সচিবালয়ের ভেতরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা। বেলা ১১টার দিকে নিজ নিজ দপ্তর ছেড়ে শত শত কর্মচারী এই বিক্ষোভে অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের বারান্দা ঘুরে মিছিল করে আন্দোলনকারীরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন-১১-এর সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তাঁরা অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন—‘অবৈধ কালো আইন মানি না’, ‘সচিবালয়ের কর্মচারী এক হও, লড়াই কর’ ইত্যাদি।

এই অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ের কর্মচারীরা গত ২৪ মে থেকে আন্দোলনে রয়েছেন। এরই মধ্যে আন্দোলন চলাকালে ২৫ মে সরকার অধ্যাদেশটি জারি করে। এরপর থেকেই কর্মবিরতি, বিক্ষোভ এবং স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পর গত সোমবার থেকে কর্মচারীরা ফের সচিবালয়ের ভেতরে ধারাবাহিক বিক্ষোভ শুরু করেন। ঈদের আগের তুলনায় আজকের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি।

আন্দোলনকারী কর্মচারীরা বলছেন, সংশোধিত চাকরি অধ্যাদেশটি তাঁদের অধিকার খর্ব করবে। তাঁরা এটিকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সচিবালয়ের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই আইন আমাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করবে। এতে কর্মক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হবে। আমরা অধ্যাদেশের পুরোপুরি প্রত্যাহার চাই।

সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে জানা গেছে, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা কমিটি কাজ করছে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিনই বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

All Categories