সন্ধান মিলেছে বিদেশে পাচার হওয়া ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের : এনবিআর
বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান মিলেছে বিদেশে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) পাঁচ দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এ সম্পদ শনাক্ত করেছে।
রোববার (১৮ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে এ তথ্য জানান সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানও উপস্থিত ছিলেন।
সিআইসির তথ্যানুসারে, এ পর্যন্ত ৩৪৬টি সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এগুলো বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে গড়ে তোলা হয়েছে। তবে এটিকে প্রাথমিক চিত্র বলে উল্লেখ করেছেন মহাপরিচালক।
বিদেশি পাসপোর্ট কেনার তথ্য
এ ছাড়া নয়টি দেশে অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করা ৩৫২টি পাসপোর্ট শনাক্ত হয়েছে। দেশগুলো হলো—অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মাল্টা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক।
শাসনামলে তথ্য গায়েবের অভিযোগ
সিআইসি মহাপরিচালক অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে অর্থ পাচারকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটাবেজে নিজেদের লোক বসিয়ে তথ্য মুছে ফেলেছিল। তবে এখন সিআইসি মুছে ফেলা সেই তথ্য পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছে।
সরকারের প্রতিশ্রুতি
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইসি, সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বয় করে পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদেশে থাকা সম্পদ ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অর্থপাচার জাতীয় অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ড। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর দেশ গড়তে চাইলে লুটেরাদের বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে।