শেষ পর্যন্ত বিমানটি জনবিরল স্থানে নিতে চেয়েছিলেন লে. তৌকির
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমান সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলার এ কে খন্দকার বিমানঘাঁটি থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়।
দুর্ঘটনা এড়াতে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধবিমানটিকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিমানটি আছড়ে পড়ার পরপরই ভবনটিতে আগুন ধরে যায়।
নিহত বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র ছয় মাস আগে তৌকির ইসলাম বিয়ে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আকসা হোসেন নিঝুমকে।
তৌকির রাজশাহী গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর ২০১০ সালে পাবনা ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।
২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং এক সময় দক্ষ পাইলট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তৌকিরের বাবা তহুরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী এবং মা সালেহা খাতুন গৃহিণী।
দুর্ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর গতকাল দুপুর থেকেই রাজশাহীর উপশহরের ৩ নম্বর সেক্টরে তাঁদের বাসায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিকেল ৫টার দিকে বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে তৌকিরের বাবা, মা, বোন এবং আত্মীয়দের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।