শেখ হাসিনার অডিওগুলোই প্রমাণ, তাঁর মনে এখনো প্রতিশোধের আগুন: আইন উপদেষ্টা
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো গাফিলতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, বিচার যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এই সরকারের আমলেই শহীদ পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে এই আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আসিফ নজরুল বলেন, আমরা বিচারকে স্বচ্ছ রাখতে চাই। তাই সময় লাগছে। কেউ কেউ চায় বিচার দ্রুত শেষ করতে, কিন্তু সময়সীমা বলে দিলে অনেক সময় প্রতিপক্ষ সুযোগ নেয়। আমরা সেটি হতে দিতে চাই না।
আলোচনায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন আগের সরকারের ভূমিকাকেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “জুলাইয়ে যারা নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। বরং এখনো তারা মিথ্যাচার করে চলেছে। মহাখুনী শেখ হাসিনার অডিও শুনলেই বোঝা যায়, তার এখনো প্রতিশোধের ইচ্ছা আছে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীরা যে অপরাধ করেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীও এমন নৃশংসতা করেনি। ডেডবডি পুড়িয়ে ফেলা, আহত ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা—এসব আমি ৭১ সালের বর্ণনায়ও পাইনি। এটা কোনো দেশের স্বাধীনতার পর ঘটেছে, যা আরও মর্মান্তিক।
তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা এমন প্রমাণ রেখে যাচ্ছি, যাতে কোনো ভবিষ্যতের সরকার এ বিচার থেকে সরে যেতে না পারে। ভিত্তিটা এতটাই মজবুত করে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা তদন্তের দায়িত্বে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, সিস্টেম চালাতে পুলিশের প্রয়োজন। তবে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা নির্যাতনের ‘আইকনিক ফিগার’ হিসেবে চিহ্নিত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, শহীদ ইয়ামিনের বাবা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও শহীদ মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান।