শাপলা-দোয়েল বাদ, নতুন তালিকায় ১১৫ প্রতীক
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতীকের তফসিলে নতুন করে আরও ৪৬টি প্রতীক যুক্ত হচ্ছে। এতে প্রতীকের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১১৫টি। তবে তালিকায় স্থান পায়নি আলোচিত দুটি প্রতীক—শাপলা’ ও ‘দোয়েল’।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখা এসব তথ্য জানায়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতীক তফসিলে যুক্ত করতে প্রাথমিকভাবে ১৫০টি প্রতীকের একটি খসড়া তৈরি করা হয়। পরে কমিশন যাচাই–বাছাই করে ১১৫টি প্রতীক চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় চাইলে এ তালিকা থেকে প্রতীক বাদ দিতে বা নতুন প্রতীক সুপারিশ করতে পারবে।
বর্তমানে ইসির তফসিলে রয়েছে ৬৯টি প্রতীক। নতুন করে ৪৬টি প্রতীক যুক্ত হলে তা দাঁড়াবে ১১৫টিতে। এর মধ্যে ৫১টি প্রতীক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি প্রতীকগুলো ভবিষ্যতের নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
নতুন যোগ হতে যাওয়া প্রতীকের মধ্যে রয়েছে—আপেল, আনারস, কোদাল, খাট, ঘড়ি, ফ্রিজ, মোড়া, ট্রাক, বক, মোরগ, খেজুর গাছ, টেলিফোন, বাঘ, রকেট, আলমিরা, গরুর গাড়ি, টেলিভিশন, রিকশা, ঈগল, গাভী, ডাব, বটগাছ, লাউ, উটপাখি, গামছা, ঢেঁকি, বাঁশি, লিচু, গোলাপ ফুল, তবলা, বেঞ্চ, একতারা, ঘণ্টা, তরমুজ, বেগুন, শঙ্খ, কাঁচি, ঘুড়ি, সাইকেল, সোনালী আঁশ, কবুতর, কলম, ঘোড়া, থালা, বালতি, সেলাই মেশিন, দাঁড়িপাল্লা, বেলুন, সোফা, কলস, চার্জার লাইট, দালান, বৈদ্যুতিক পাখা, সিংহ, কলার ছড়ি, চাবি, দেওয়াল ঘড়ি, মই, কাঁঠাল, চিংড়ি, দোয়াত-কলম, মগ, সুটকেস, হরিণ, কাপ-পিরিচ, চেয়ার, দোলনা, মাইক, হাত (পাঞ্জা), কাস্তে, চশমা, ধানের শীষ, মটরগাড়ি, হাতঘড়ি, কেটলি, ছড়ি, নোঙর, মশাল, হাতপাখা, কুমির, ছাতা, নৌকা, ময়ূর, হাঁস, কম্পিউটার, জগ, প্রজাপতি, মাছ, কলা, কুড়াল, জাহাজ, ফুটবল, মাথাল, টিউবওয়েল, ফুলকপি, মিনার, কুলা, টিফিন ক্যারিয়ার, ফুলের টব, মোমবাতি, কুঁড়ে ঘর, টেবিল, ফুলের মালা, মোবাইল ফোন, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হক্কা এবং হেলিকপ্টার।
তবে আলোচনায় থাকা ‘শাপলা’ ও ‘দোয়েল’ প্রতীক এবারও যুক্ত হয়নি। ইসির একাধিক সূত্র বলছে, ‘শাপলা’ জাতীয় প্রতীকের অংশ হওয়ায় এবং ‘দোয়েল’ জাতীয় পাখি হওয়ায় কমিশন তা অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতীকের সংখ্যা বাড়ানোর এই উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে দল ও প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই প্রস্তুতি।