পশ্চিমবঙ্গে ১৯২ আসনে এগিয়ে বিজেপি, ৯৭টিতে তৃণমূল কংগ্রেস

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ২৯৩ আসনের মধ্যে বিজেপি ১৯০টিতে এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ৯৯ আসনে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে কোন আসনে কত শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে, সে তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ১৯০টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস ৯৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বামজোট এগিয়ে আছে দুটি আসনে। তবে আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তাদের হিসাবে বিজেপি ১৮৩টি এবং তৃণমূল ১০২টি আসনে এগিয়ে।

২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৪৮টি আসন। তবে অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল হওয়ায় এবার ২৯৩টি আসনের ফল গণনা হচ্ছে।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যজুড়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে কলকাতাসহ ২৩ জেলার ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়।

সবচেয়ে আলোচিত লড়াই চলছে ভবানীপুর আসনে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। এখন পর্যন্ত গণনায় শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৮ হাজার ৪৬১ ভোট। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৫৯ ভোট। তিনি ৮৯৮ ভোটে এগিয়ে আছেন।

নির্বাচনী বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল নিয়ে এত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কমই দেখা গেছে। রাজ্যের ক্ষমতায় বিজেপি প্রথমবারের মতো আসতে পারবে কি না, নাকি তৃণমূল টানা মেয়াদ ধরে রাখবে—তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

এবারের নির্বাচনে দুই দফায় রেকর্ড ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। বুথফেরত সমীক্ষার বড় অংশেই বিজেপির সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাস দেওয়া হয়েছিল।

ভোট গণনা অবাধ ও স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গণনাকেন্দ্রগুলোতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণনা কার্যক্রম তদারকিতে মোট ৪৩২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক। উত্তর ২৪ পরগনায় সর্বোচ্চ ৪৯ জন গণনা পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। সবচেয়ে কম পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আলিপুরদুয়ারে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। ব্যাপক সহিংসতা, ইভিএম কারচুপি এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রের সব বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে।

কমিশনের পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল না। কেন্দ্রটির ২৮৫টি বুথে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

All Categories