প্রেসক্লাবে আন্দোলনকারীদের ওপর জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে সনদ দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামা প্রার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে পুলিশ। আজ রোববার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ব্যর্থ প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। এ সময় রমনা ও আশপাশ এলাকায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক বলেন, “আন্দোলনকারীদের বারবার সরে যেতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা সাড়া না দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। তবে লাঠিচার্জ বা মারধর করা হয়নি।

পুলিশ সূত্র জানায়, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় মৌখিক পর্বে অংশ নেন প্রায় ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ২৩ হাজারের বেশি প্রার্থী উত্তীর্ণ হননি। এ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ ফেল করানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, ফলাফলে স্বচ্ছতা ছিল না। অনেকেই ভাইভায় সন্তোষজনক উত্তর দেওয়ার পরও অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করে সবাইকে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিতে হবে।

সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তাঁরা বলেন, এটা আমাদের অধিকার ও ন্যায়ের লড়াই।

গত ৪ জুন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। লিখিত ও মৌখিক ধাপ পেরিয়ে উত্তীর্ণ হন ৬০ হাজার ৫২১ জন। বাকি ২৩ হাজারের বেশি প্রার্থী অকৃতকার্য হন, যাঁদের একটি বড় অংশ ফলাফল পুনর্বিবেচনার দাবি তুলে আন্দোলনে নেমেছেন। এর আগে গত ১৫ জুন এনটিআরসিএ কার্যালয়ের সামনেও একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

All Categories