পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা ট্র্যাজেডির বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা মামলা ও আপিলের ধারাবাহিকতায় আসামি এবং নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতে তৎকালীন সরকারের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীর নাম উঠে এসেছে। চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, মির্জা আজম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক-সহ অন্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এসেছে। এসব বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮০০। মোট ১,২০০ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকশ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
এর আগে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। পাশাপাশি ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন।
পিলখানায় সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্নের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।