‘ওডিবি-এম-১৭০১’ গ্রুপে রাষ্ট্রবিরোধী পরিকল্পনা, অ্যাডমিন মেজর সাদিকের স্ত্রী!

ফেসবুকে ‘ওডিবি-এম-১৭০১ (অপারেশন ঢাকা ব্লকেড)’ নামে একটি গোপন গ্রুপ খুলে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের টেরিটরি ম্যানেজার সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রুপটি পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন সুমাইয়া। তিনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাদিকুল হকের স্ত্রী।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা গুগল শিটে এন্ট্রি করতেন সুমাইয়া। অনলাইন মেসেজিং অ্যাপে গোপন কোডের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন তিনি। এমনকি পথশিশুদেরও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টার ছাড়াও পূর্বাচলের সি-সেল রিসোর্ট, কাঁটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএস এবং উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের প্রিয়াংকা সিটির একটি ফ্ল্যাটে সুমাইয়া ও তার স্বামী মেজর (অব.) সাদিকুল হক একাধিক গোপন বৈঠকের আয়োজন করেন।

বৈঠকগুলোতে ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের’ কার্যক্রম সক্রিয় রাখা, সমর্থকদের সংগঠিত করা এবং দেশে রাজনৈতিক অরাজকতা তৈরির রূপরেখা নির্ধারণের আলোচনা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৮ জুলাই রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে গোপন বৈঠক হয়। এতে সাবেক ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাসহ ৩০০–৪০০ জন অংশ নেন। বৈঠকে সরকারবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ‘শাহবাগ মোড় দখলের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার’ পরিকল্পনা হয়।

এ ঘটনায় ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক জ্যোতির্ময় মণ্ডল।

গত বুধবার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন আদালতে তুলে তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে সুমাইয়ার আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন বলেন, মামলার এজাহারে তাঁর মক্কেলের নাম নেই। মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই।

আদালতের অনুমতি নিয়ে সুমাইয়া নিজেও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীর সঙ্গে ওই কনভেনশন সেন্টারে গিয়েছিলাম। ওখানে কী হচ্ছিল, তা আমার জানা ছিল না। আমাকে দয়া করে রিমান্ডে দেবেন না, আমি কোনো অন্যায় করিনি।

ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, সুমাইয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা যাচাই করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার (অ্যাডমিন ও গোয়েন্দা–দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন শুনানিতে বলেন, বিদেশি সংস্থার সহায়তায় সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে ওই গোপন বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল।

All Categories