নির্বাচনে যে-ই জয়ী হোক, তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে যে-ই জয়ী হোক না কেন, তার সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়।
নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ সরকার প্রসঙ্গে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, বাংলাদেশে কে নির্বাচিত হবে এবং কে পরবর্তী সরকার গঠন করবে—এটি বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এতে অন্য কোনো দেশের বলার অধিকার নেই। ভোটের মাধ্যমে নতুন সরকার নির্বাচনের অধিকার একান্তভাবেই বাংলাদেশের জনগণের।
তিনি বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে–ই জয়ী হোক না কেন, তার সঙ্গেই আমরা কাজ করব।’
বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক—সবার সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ‘এখানে রাজনৈতিক পরিসরের সব দিক থেকেই গত ২০ বছর ধরে আমার বন্ধু রয়েছে,’ বলেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি—এর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, বাণিজ্য, ব্যবসা ও নিরাপত্তা।’
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এবং সামনে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ তাদের মত প্রকাশ করেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারা আবারও সেই সুযোগ পাবে।’
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁকে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ।
বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আপনাদের সবার সঙ্গে কাজ করতে এবং এই আলোচনা চালিয়ে যেতে আমি আগ্রহী।’