নির্বাচনে ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা, থাকবে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৫ হাজার বডি–ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১ লাখ, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ জন (এর মধ্যে স্থলভাগে ১ হাজার ২৫০), বাংলাদেশ পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র‍্যাব ৭ হাজার ৭০০ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ ভোটকেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ সদস্যরা বডি–ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে। এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে ড্রোন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি, নৌবাহিনী ১৬টি, বিজিবি ১০০টি, বাংলাদেশ পুলিশ ৫০টি, কোস্ট গার্ড ২০টি, র‍্যাব ১৬টি এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ১৬টি ড্রোন সমন্বিতভাবে ব্যবহার করবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনীর ডগ স্কোয়াডও মাঠে থাকবে।

নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’ ব্যবহার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) প্রস্তুত করা এই অ্যাপের সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকার সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, দুর্গম ভোটকেন্দ্রে ব্যালটসহ নির্বাচনসামগ্রী এবং নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভোটের আগে চার দিন নিবিড় টহল চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে বর্তমানে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তারা বহাল থাকবেন। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েনের আওতায় ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিন দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ডসহ বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে।

এ ছাড়া পুলিশ, আনসার–ভিডিপি, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সেলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

All Categories