মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে হাজার হাজার মার্কিন প্যারাট্রুপার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিজাত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে শুরু করেছে। সোমবার দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। একই সময়ে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে ভাবছেন। আগেই জানা গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে ইরানের ভেতরেও অভিযান চালানোর সক্ষমতা বাড়বে।৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অত্যন্ত সুপ্রশিক্ষিত, অভিজাত এবং দ্রুত মোতায়েনযোগ্য প্যারাশুট অ্যাসল্ট ফোর্স বা প্যারাট্রুপার ইউনিট। এটি যুক্তরাষ্ট্রের এমন একদল সামরিক সদস্য, যারা শত্রুর এলাকার ভেতরে প্যারাশুটের মাধ্যমে নেমে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ প্রশিক্ষিত।  এই ডিভিশনের সেনারা মূলত আকাশপথের মাধ্যমে প্যারাশুট ব্যবহার করে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতরণ করে এবং দ্রুত যেকোনো স্থানে আক্রমণাত্মক অভিযান চালাতে সক্ষম।

মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম এলিট বা বিশেষ বাহিনী হিসেবে পরিচিত এরা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ডিভিশনের হাজার হাজার প্যারাট্রুপারকে ঐ অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এই ইউনিটের সেনারা আগে আফগানিস্তানেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রয়টার্স সর্বপ্রথম ১৮ মার্চ জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে।ই পদক্ষেপ ইরানের ভূখণ্ডের ভেতরেও সেনা মোতায়েনের সুযোগ প্রসারিত করবে।

নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই সেনারা ইতিমধ্যে সেখানে থাকা নৌবাহিনী, মেরিন ও বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিচ্ছে। প্রায় দুই হাজার ৫০০ মেরিন সেনাও ইতিমধ্যে পৌঁছেছে। তবে ঠিক কোথায় তাদের মোতায়েন করা হচ্ছে, তা কর্মকর্তারা বলেননি।এই অতিরিক্ত বাহিনীর মধ্যে রয়েছে—৮২তম ডিভিশনের কিছু সদর দপ্তর সদস্য, রসদ (লজিস্টিক) ও সহায়ক দল ও একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম।এখনো ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে কোনো অভিযান হলে সেটার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেনাদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে একটি সম্ভাবনা হলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করা। এই দ্বীপ থেকে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। তবে এমন অভিযান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সহজেই সেখানে আঘাত হানতে পারে।

এর আগে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে স্থলবাহিনী পাঠিয়ে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল করার বিষয়েও আলোচনা করেছে। তবে এমন সিদ্ধান্ত নিলে মার্কিন সেনাদের ইরানের ভেতরে দীর্ঘ সময় থাকতে হতে পারে। আরেকটি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ইরানের ভেতরেও সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। যদিও এই ধরনের অভিযান শুরুতে বিমান ও নৌবাহিনী দিয়ে চালানো হবে, পরে ইরানের উপকূল এলাকায় স্থলবাহিনীও পাঠানো হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ভালো’ সরকারব্যবস্থার সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। না হলে ইরানের তেলক্ষেত্র ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানো ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, মার্কিন জনগণের অনেকেই এই যুদ্ধে সমর্থন দিচ্ছে না। এছাড়া ট্রাম্প আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু করবেন না। এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে ৩০০-এর বেশি মার্কিন সেনা আহত এবং ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

রয়টার্স এর আগে জানিয়েছিল, প্রশাসন ইরানের অভ্যন্তরে স্থলবাহিনী ব্যবহার করে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উত্তোলনের বিষয়েও আলোচনা করেছে। যদিও সেই বিকল্পটির অর্থ হতে পারে মার্কিন সেনাদের ইরানের আরো গভীরে সম্ভাব্য দীর্ঘ সময়ের জন্য মোতায়েন করা।

সূত্র : রয়টার্স।

 


 

All Categories