মানুষ উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য জন্মেছে, চাকরি করার জন্য নয়: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানুষ চাকরি করার জন্য জন্মায়নি; মানুষের জন্ম উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য। তাই দেশে এমন আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেকে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ পাবে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের খিলজি রোডে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসস।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মানুষ কারও চাকরি করার জন্য পৃথিবীতে আসে নাই। মানুষের জন্ম হয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য। আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সবাই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের ছেলেমেয়েরাও এখন অনেক কিছু জানে ও বোঝে। তাদের জন্য এমন সামাজিক ও আর্থিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা এককভাবে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করতে পারবে।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, শুধু ঋণ নয় সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে চান তাঁরা। কেউ ব্যবসার ধারণা নিয়ে এগিয়ে এলে সরকার বা প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে অংশীদার হবে। সফল হলে ধীরে ধীরে উদ্যোক্তাই মালিকানা নিজের হাতে নিতে পারবে।

সে যদি ভালো করে, তাহলে আমাদের অংশ ক্রয় করে নিতে পারবে। আমরা চাই, সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সহায়তা করতে বলেন ইউনূস।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি এখন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।

পিকেএসএফ গঠনের সূচনার প্রসঙ্গ টেনে ইউনূস বলেন, ২০ কোটি টাকা সহায়তাকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা কমিশন, দাতা সংস্থা, এমনকি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পর্যন্ত সরাসরি যুক্ত হয়েছিলেন। সেই অর্থ থেকেই পিকেএসএফ-এর যাত্রা শুরু।

তিনি জানান, শুরুতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করেছিল, তা সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে। তবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সঙ্গে কিছু দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা দূর করা জরুরি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এখন সময় এসেছে এমন আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার, যেখানে প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তি উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়ানো হবে।

‘৮০’র দশকের যে আইন, তা আজকের উদ্যোক্তা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খায় না। তাই সংস্কার দরকার। এই ভবনের যাত্রা হোক পিকেএসএফ-এর নতুন দিগন্তের সূচনা। দীর্ঘ ৩৫ বছরের অর্জন আমাদের শক্ত ভিত। এখন বড় পরিসরে যাওয়ার সময় এসেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, টাকার কোনো অভাব হবে না। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা রয়েছে। সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে সত্যিকারের উদ্যোক্তা তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পিকেএসএফ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বক্তব্য দেন।

All Categories