ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি: পলিসি সামিটে জামায়াত
ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যাপক নীতিগত অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য খাতে জামায়াত জানায়, ক্ষমতায় গেলে ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক এবং পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মোট ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এছাড়া ‘ফার্স্ট থাউজ্যান্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভকাল থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়।
অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে দলটি জানায়, ধাপে ধাপে বিদ্যমান কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমানো হবে। দীর্ঘমেয়াদে করের হার ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিল্পকারখানার জন্য আগামী তিন বছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বাড়ানো হবে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানায় জামায়াত। এই কার্ডের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কল্যাণ সুবিধা একীভূত করা হবে।
শিল্পনীতির আওতায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর অঙ্গীকার করা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কারখানার ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কৃষিখাতে কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘কর্জে হাসানা’ স্কিমের আওতায় প্রতি বছর সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ স্নাতককে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদে মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় দলটি।
শিক্ষা খাতে মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিবছর দরিদ্র মেধাবী ১০০ শিক্ষার্থীকে হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজসহ বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। একই সঙ্গে ইডেন কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ একীভূত করে বিশ্বের বৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয় জামায়াত।