জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে ঐকমত্যে রাজনৈতিক দলগুলো
জরুরি অবস্থা জারির সাংবিধানিক ধারা ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে সংশোধনের প্রস্তাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
রোববার (১৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপের দ্বিতীয় পর্যায়ের ১২তম দিনের আলোচনায় এসব বিষয়ে একমত হয় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অধ্যাপক রীয়াজ। তিনি জানান, সংবিধানের ১৪১(ক) অনুচ্ছেদে ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’ শব্দটি বাদ দিয়ে তার জায়গায় ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রতি হুমকি, মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ যুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।
জরুরি অবস্থা জারিতে প্রধানমন্ত্রী নয়, মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবেও একমত হয়েছে দলগুলো।
আলোচনায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, জরুরি অবস্থাকালে সংবিধানের ৪৭(ক) অনুচ্ছেদের বিধান সাপেক্ষে কোনো নাগরিকের জীবনের অধিকার এবং বিচার ও দণ্ডসংক্রান্ত মৌলিক অধিকার (সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ) খর্ব করা যাবে না।
অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, জরুরি অবস্থা যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না হয়—এ বিষয়েও সব দল একমত হয়েছে।
বৈঠকে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার সময় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা কিংবা তাঁর অনুপস্থিতিতে উপনেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সমর্থন দিয়েছে দলগুলো।
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রসঙ্গে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে সংশোধনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন—এটি সংবিধানে রয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট যদি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং জনমত পায়, তাহলে রাষ্ট্রপতি জ্যেষ্ঠতম দুই বিচারপতির মধ্যে যেকোনো একজনকে নিয়োগ দিতে পারবেন—এমন বিধান সংযোজনের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে শর্ত থাকবে, কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অযোগ্যতার অভিযোগে যদি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তদন্ত চলমান থাকে, তাহলে তাঁকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।’
রোববারের বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় কমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে চলমান এই সংলাপের ভিত্তিতে একটি সুপারিশ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে তা সরকার ও সংসদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।