জাতীয় ‘সংস্কারক’ স্বীকৃতি চান না প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ ঘোষণা কেন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। তবে এমন কোনো উপাধি চান না বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূস। সরকারের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক রিট মামলায় রুল জারি করেছেন। রুলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ ঘোষণা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। সরকার রুলের কপি পাওয়ার পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাব দেবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “অধ্যাপক ইউনূস নিজে এ ধরনের কোনো খেতাব প্রত্যাশা করেন না এবং সরকারও তাঁকে এ উপাধি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। রিটটি সম্পূর্ণভাবে রিট আবেদনকারীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা হয়েছে। কী ভিত্তিতে এ ধরনের ঘোষণা চাওয়া হয়েছে, তা অস্পষ্ট। বিষয়টি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

গতকাল সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলটি জারি করেন। একই রুলে ১৫ জুলাইয়ের ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ শহিদ হওয়া আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ অন্যদের ‘জাতীয় শহিদ’ ঘোষণা কেন করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, তথ্য সচিব ও অর্থ সচিবকে রুলের বিবাদী করা হয়েছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ইমদাদুল হক গত ফেব্রুয়ারিতে এ রিট করেন। আদালতে তাঁর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ড. ইউনূস জাতীয় দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। দেশকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি একাধিক কমিশন গঠন করেছেন। সে কারণে তাঁকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ ঘোষণা করা সময়ের দাবি।

আদালতের রুলে বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

All Categories