ইসরায়েলে চলে গেলেন ভারতের বিশেষ গোত্রের ২৫০ জন
বাইবেলের একটি হারিয়ে যাওয়া গোত্রের বংশধর বলে দাবি করা ২৫০ জনেরও বেশি ভারতীয় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের তেল আবিব বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন . বিমানবন্দরে পৌঁছালে নতুন আগতদের নীল-সাদা (ইসরায়েলি পতাকার রঙ) বেলুন দিয়ে সাজানো তোরণের নিচ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় কয়েক ডজন মানুষ ঐতিহ্যবাহী ইহুদি গান গেয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানান।এই ব্যক্তিরা উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্যের একটি সম্প্রদায়ের সদস্য। তাদের নাম ‘বনেই মেনাশে’। ইসরায়েল সরকার গত নভেম্বর মাসে সিদ্ধান্ত নেয়, এই সম্প্রদায়ের প্রায় চার হাজার ৬০০ জনকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলে আনা ও পুনর্বাসন করা হবে। বৃহস্পতিবার যারা এসেছেন, তারা সেই পরিকল্পনার প্রথম দল।
এই সম্প্রদায়ের দাবি, তারা বাইবেলের ইসরায়েলি হারিয়ে যাওয়া গোত্রগুলোর একটি, বিশেষ করে মানাসে গোত্রের বংশধর। ধারণা করা হয়, প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৭২০ সালে অ্যাসিরীয় বিজয়ের সময় এই গোত্র নির্বাসিত হয়েছিল।দাগান জোলাত নামে একজন ব্যক্তি ২০ বছর ধরে ইসরায়েলে বসবাস করছেন। বিমানবন্দরে তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন।তিনি সেই বন্ধুকে নিজের ভাইয়ের মতো বলে উল্লেখ করেন।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী ছিলাম এবং আমাদের গ্রামে খুব অল্প কয়েকজন ইহুদি ছিল, তাদের মধ্যে আমরা ছিলাম।’ তিনি আরো জানান, প্রায় ৯ বছর ধরে তিনি তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
তিনি স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ভারতে যখন আমার ছেলে ছোট ছিল, আমার বন্ধু তাকে প্রায়ই কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াত।’ ‘শাভেই ইসরায়েল’ নামের একটি সংস্থা জানিয়েছে, যারা ইসরায়েলের হারিয়ে যাওয়া গোত্রগুলোর বংশধরদের খোঁজ করে, তাদের মতে ১৯৯০-এর দশক থেকে প্রায় চার হাজার ‘বনেই মেনাশে’ ইতিমধ্যে ইসরায়েলে অভিবাসন করেছেন।
বর্তমানে আরো প্রায় সাত হাজার জন ভারতে বসবাস করছেন।তাদের মৌখিক ইতিহাস অনুযায়ী, তারা শত শত বছর ধরে পারস্য, আফগানিস্তান, তিব্বত ও চীন হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন এবং এই সময়ে কিছু ইহুদি ধর্মীয় প্রথা আসছেন। ভারতে উনিশ শতকের মিশনারিদের প্রভাবে তারা খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হন।
ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আগত ২৫০ জন বনেই মেনাশে উত্তর ইসরায়েলে বসতি স্থাপন করবেন। তবে ইসরায়েলের নাগরিকত্ব পেতে তাদের আনুষ্ঠানিক ধর্মান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
অভিবাসন মন্ত্রী ওফির সোফার বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানিয়ে এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, এটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার শুরু, যার মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার ২০০ জনকে ইসরায়েলে আনা হবে।
এদিকে মণিপুরে গত কয়েক বছরে হিন্দু মেইতেই ও খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি ইহুদি ইসরায়েলে অভিবাসন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম।