হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মমতাজ ৪ দিনের রিমান্ডে
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম আদালতে মমতাজের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ মমতাজের জামিন চেয়ে আবেদন করে। শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সোমবার (১২ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে মমতাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মো. সাগর নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হন। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। গুলিতে সাগরের বুক বিদ্ধ হয়ে পেছন দিক দিয়ে গুলি বের হয়ে যায়। পরে তাঁর মা মোসা. বিউটি আক্তার অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত ৩টার দিকে মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছেলের মরদেহ খুঁজে পান।
এ ঘটনায় নিহত সাগরের মা গত বছরের ২৭ নভেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মমতাজ বেগম মামলার ৪৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মমতাজ বেগম গানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি গান গেয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে সহায়তা করেছেন। এমনকি পার্লামেন্টে বসেও শেখ হাসিনার বন্দনা করেছেন।
অন্যদিকে মমতাজের পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁরা মমতাজের জামিন প্রার্থনা করেন।