হাসিনা-রেহানা-টিউলিপ-ববিসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
রোববার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এই পরোয়ানা জারি করেন। আদালত আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ মোট ৫০ জনের বিরুদ্ধে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তিনটি এবং শেখ রেহানা, আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিবের বিরুদ্ধে একটি করে মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
দুদক জানায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাগুলোর তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, শেখ রেহানা, আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক কখনোই নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেননি, অথচ তারা প্লট বরাদ্দ পান। তদন্তে জানা যায়, টিউলিপ সিদ্দিক বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে খালা শেখ হাসিনার ওপর চাপ প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তার করেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন: গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার,অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ ,সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার ,সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন,সাবেক সচিব শহিদ উল্লা খন্দকার,রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা,সাবেক সদস্য মো. খুরশীদ আলম,তন্ময় দাস, মো. নাসির উদ্দীন,মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী,সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, ফারিয়া সুলতানা,পরিচালক শেখ শহিদুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম,উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ,তদন্ত প্রাপ্তে আসামি মো. সালাহ উদ্দিন (সাবেক একান্ত সচিব-১),সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ
দুদকের তিনজন কর্মকর্তাই এই মামলার তদন্ত করেন সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া (দুইটি মামলা), এবং সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান (একটি মামলা)।