হাদি হত্যাচেষ্টা: আদালতে কবিরের রিমান্ডে নতুন তথ্য

কবিরের রিমান্ড শুনানিতে মোটরসাইকেলের মালিকানা নিয়ে নতুন তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিকানা নিয়ে নতুন তথ্য উঠে এসেছে আদালতে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিএমএম আদালতে গ্রেপ্তারকৃত মো. কবিরের রিমান্ড শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি কবিরের মালিকানাধীন।

এর আগে একই মামলায় মো. আব্দুল হান্নান নামে এক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেলের মালিক দাবি করে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রোববার রিমান্ড শুনানিতে হান্নান আদালতে দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি তাঁর নয়। তিনি জানান, মিরপুর মাজার রোডের একটি শোরুম থেকে মোটরসাইকেলটি কিনলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে চালাতে না পারায় পরে সেটি আবার ওই শোরুমেই বিক্রি করে দেন। মালিকানা বদলের জন্য শোরুম থেকে ফোন এলেও অসুস্থ থাকায় তিনি যেতে পারেননি বলেও দাবি করেন।

আজ কবিরের রিমান্ড শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহম্মেদ আদালতে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে—কবির, ফয়সল করিমসহ অন্য আসামিরা ৫ ডিসেম্বর বাংলামোটরে ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি জানান, হান্নানের কাছ থেকে বিক্রি হওয়া ওই মোটরসাইকেলটির প্রকৃত মালিক কবির।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. কাইয়ুম হোসেন শুনানিতে বলেন, মোটরসাইকেলযোগে গিয়ে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। ঘটনার পর কবির আত্মগোপনে চলে যান। হত্যাচেষ্টার পেছনে কারা জড়িত, তা জানার জন্য কবিরকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি।

আদালতে কবিরের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিচারকের প্রশ্নে কবির বলেন, তিনি ফয়সল করিমের মোটরসাইকেলে ট্রিপ ও পাঠাও চালাতেন। ফয়সল ফোন দিলে তিনি বিভিন্ন জায়গায় যেতেন। ১৮ দিন আগে ফয়সল তাঁকে হাদির কাছে নিয়ে যান বলেও দাবি করেন কবির।

মোটরসাইকেলের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কবির বলেন, মোটরসাইকেলটি তাঁর এক বন্ধুর। বন্ধুটি তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন। ওই বন্ধুর নাম হিসেবে তিনি মাইনুদ্দিন ইসলাম শুভর কথা জানান।

শুনানি শেষে আদালত কবিরের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালানোর সময় গত শুক্রবার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় বসা অবস্থায় ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন।

র‌্যাব জানিয়েছে, কবির ফয়সল করিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং আদাবর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলায়। ফয়সল করিমের বাড়িও একই জেলায়।

………………………………..

All Categories