গোপালগঞ্জের ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্য ছিল, তবে সহিংসতা এতটা ব্যাপক হবে সে তথ্য ছিল না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সহিংসতা ও সংঘর্ষের পর বর্তমানে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গোপালগঞ্জের ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে সহিংসতা যে এই মাত্রায় হবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা অন্যায় করেছে, তারা গ্রেপ্তার হবে। কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা নিয়ে এনসিপি নেতাদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আপনিও তো অনেক কিছু বলতে পারেন। যার যার বক্তব্য সে দেবে।
তিনি জানান, সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ১০ সদস্য আহত হন। তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে ঢাকায় পুলিশ হাসপাতালে আনা হয়েছে চিকিৎসার জন্য। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে এ অভিযান কত দিন চলবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘গতকালের ঘটনাটি সবাই দেখেছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হবে।’
গতকাল বুধবার গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এনসিপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব হামলায় জড়িত ছিলেন। সংঘর্ষে চারজন নিহত হন, গুলিবিদ্ধ হন অন্তত নয়জন এবং আহত হন অর্ধশতাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেল থেকে ১৪৪ ধারা এবং সন্ধ্যার পর কারফিউ জারি করে প্রশাসন। কারফিউ আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।