এপ্রিল থেকেই দুপুরের খাবার পাবে প্রাথমিকের ৩১ লাখ শিক্ষার্থী
আগামীএপ্রিল মাস থেকেই চালুহচ্ছে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং ঝরেপড়া রোধে সপ্তাহে পাঁচদিন দুপুরের খাবারের এ কর্মসূচি চালুরউদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ২০ হাজার প্রাথমিকবিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ৩০হাজার শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায়আসছে।
জাতীয়অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেপ্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর । প্রকল্পটি ২০২৭সাল পর্যন্ত চলবে বলেও সিদ্ধান্তহয় ওই বৈঠকে।
বৈঠকেচলতি অর্থবছর প্রকল্পে৩৮ কোটি টাকা ব্যয়প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামীঅর্থবছরে যা ২ হাজার১৬৪ কোটি টাকা হতেপারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর২ হাজার ১৬১ কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১৯০কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাবকরা হয়েছে।
‘সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’র খরচ কোনোবিদেশি ঋণ কিংবা অনুদানছাড়াই নিজস্ব জোগান থেকে বহন করবেসরকার। প্রকল্পের ব্যয়ভার ধরা হয়েছে ৫হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। প্রাথমিকশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশেপ্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে সিদ্ধান্তনিয়েছে সরকার।
প্রাথমিকশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে আসে। অন্যদিকে, অবস্থাপন্ন শিশুদের অভিভাবকরা সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কিন্ডারগার্টেনে পড়িয়েথাকেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা প্রান্তিক এসবশিশু দারিদ্র্য কিংবা অসচেতনতায় অনেকেই বাড়ি থেকে ঠিকমতোখেয়ে আসে না। অনেকক্ষেত্রে তারা যে সবখাবার গ্রহণ করে তা পুষ্টিসমৃদ্ধওহয় না। আবার শ্রেণিকক্ষেউপস্থিত দ্বিতীয় ধাপের শ্রেণিতে থাকা শিক্ষার্থীরাখাবার গ্রহণ না করার কারণেখিদে পেট নিয়ে দীর্ঘক্ষণঅভুক্ত থাকে, ফলে লেখাপড়ায় তারামনোযোগী হতে পারে না।অন্যদিকে হয়ত তাদের পরিবারেরপুষ্টিকর খাবার কেনারও সামর্থ্য থাকে না।
এসববিষয় বিবেচনা করেই দেশের প্রাথমিকবিদ্যালয়ের বাচ্চাদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রান্তিক পর্যায়ের সকল উপজেলার স্কুলগুলোকেপর্যায়ক্রমে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনাকরেছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতিপ্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসযত দ্রুত সম্ভব দেশের সব উপজেলার শিক্ষার্থীদেরএ প্রকল্পের আওতায় আনার ঘোষণা দেন।শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর পাঠদানও গ্রহণ যেন ব্যাহত নাহয়, সে পরিকল্পনাও রয়েছেসরকারের, বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিকশিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, তিনবছর মেয়াদী প্রকল্পটিশিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে উল্লেখযোগ্যভূমিকা রাখতে পারে এ লক্ষ্যেগ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমেসারাদেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। দেশের ৬২জেলার ১৫০ উপজেলার ১৯হাজার ৪১৯ সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চলবে। এ উপজেলার মধ্যে৯১ শতাংশ, অর্থাৎ ১৩৫ উপজেলা অতিউচ্চ এবং উচ্চ দারিদ্র্যপ্রবণ। বাকি ১৪টি, অর্থাৎ৯ শতাংশ উপজেলা নিম্ন দারিদ্র্য প্রবণ এলাকা। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে থাকবে দুধ, ডিম, রুটি (বন) এবং মৌসুমি ফল।তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে শুকনোপুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বিতরণের জন্য একটি রোডম্যাপতৈরি করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রকল্পটি বিবিএস এর দারিদ্র্য ম্যাপদেখে ১৫০ টি উপজেলারপ্রায় ১৮ থেকে ১৯ হাজার স্কুলকে নির্বাচন করা হয়েছে। উপজেলারসব স্কুলের বাচ্চারাই খাবার পাবে। খাবার এমনভাবে পরিবেশন করা হবে যাতেশিক্ষার্থীদের মধ্যে লিডারশিপ তৈরি হয়। তিনধাপে পর্যায়ক্রমে পুষ্টিসমৃদ্ধ এ খাবার পরিবেশনকরা হবে।
এরমধ্যে স্কুল খোলার প্রথম তিনদিন শিক্ষার্থীরা একটি করে ডিমও বনরুটি (ছোট গোল পাউরুটি), পরের দুইদিন পর্যায়ক্রমে ইউএসটি দুধ ও বনরুটিএবং অন্যদিন পাবে পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুটও যে কোন মৌসুমিফল। খাবারের পেছনে শিক্ষার্থী প্রতি খরচ হবে গড়ে৩৯ থেকে ৪০ টাকা।কার্যক্রমের শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে স্থানীয়দের নিয়ে একটি কমিটিকাজ করবে।
প্রাথমিকও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জনরায় পোদ্দার এ প্রসঙ্গে জানান, মিড ডে মিল প্রকল্পেরউদ্দেশ্য হচ্ছে, শিশুরা লম্বা সময় স্কুলে থাকে, এসময় তারা দুপুরে কিছু খেলে ক্ষুধা দূর হবে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার এবং ভাসানচরে অবস্থানরতমিয়ানমারের শিশুরাও এ প্রকল্পে যুক্তহবে। ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৯৯জন শিক্ষক এ প্রকল্পের আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ পাবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদেরশিক্ষক প্রফেসর মো. আবদুস সালামেরমতে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। একটিদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদেরপুষ্টির দিকটি বিবেচনায় রেখে এ ধরনেরউদ্যোগে সুদূরপ্রসারী হবে বলেও মনে করেন তিনি।