চট্টগ্রামে গেস্ট হাউজ থেকে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি কক্ষ থেকে সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদের (৭৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ক্লাবের ৩০৮ নম্বর কক্ষের বারান্দার কাচের দরজা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপকমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে এসে ক্লাবের কক্ষে রাত কাটিয়েছিলেন এম হারুন-অর-রশীদ। সকালে একটি বৈঠক ছিল তাঁর। কিন্তু সময়মতো বের না হওয়ায় এবং ফোনে সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রটোকল টিম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সহায়তায় জানালার কাচ ভেঙে কক্ষে ঢুকে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সাবেক সেনাপ্রধান হৃদ্‌রোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের কাতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম ক্লাবে এসে পৌঁছেছেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) চট্টগ্রামের একটি চিকিৎসক দল তাঁর মরদেহ পরীক্ষা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরিবার।

রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছান হারুন-অর-রশীদ। বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম ক্লাবের ভিআইপি কক্ষে ওঠেন। পরে একটি বিয়ের দাওয়াতে অংশ নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্লাবে ফেরেন। ফেরার আগে পরদিনের নাশতার সময় জেনে নেন তিনি।

সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বারান্দার গ্লাস ভেঙে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

তাঁর নিকটাত্মীয় এনাম আহমেদ জানান, চট্টগ্রামের একটি মামলায় সোমবার আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সে কারণেই তিনি চট্টগ্রামে এসেছিলেন।

বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এম হারুন-অর-রশীদ ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দশম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অবসরের পর ডেসটিনি গ্রুপে যুক্ত হন। প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এক মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি কারাভোগ করেন।

All Categories