Feb 01, 2026
বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় হুমকির মুখে ভারতের অলিম্পিক স্বপ্ন

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় হুমকির মুখে ভারতের অলিম্পিক স্বপ্ন

বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত শুধু ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। খেলাধুলায় রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রত্যাখ্যান করায় এই সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা উদ্বেগকে এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এর মধ্যেই কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

গত এক মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও সড়ক সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। কলকাতা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতে রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিসিসিআইয়ের প্রভাবেই ভেন্যু পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদিও আইসিসি নিজেদের একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দাবি করে, অতীতে ভারতের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একাধিক নজির রয়েছে।

২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও আর্থিক কারণ দেখিয়ে ভারতকে গায়ানায় সেমিফাইনাল খেলার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।

আইসিসিতে বিসিসিআইয়ের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন। তাঁর বাবা অমিত শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত আগে জিওস্টার মিডিয়া গ্রুপে শীর্ষ পদে ছিলেন, যারা বর্তমানে আইসিসি ইভেন্টগুলোর একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্বধারী।

এই রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন ভারত ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দিল্লিতে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন নিশ্চিত হওয়ার পর আহমেদাবাদকে কেন্দ্র করে অলিম্পিক বিড করছে দেশটি। এ ক্ষেত্রে কাতারকে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) অবস্থান আইসিসির তুলনায় অনেক কঠোর। আইওসি সূত্র জানিয়েছে, কোনো দেশের কারণে অন্য দেশগুলো বয়কট করতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলে সে দেশকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হয়। গেমসে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মত প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আইওসির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উদাহরণ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার ঘটনাকে সামনে আনা হচ্ছে। গত অক্টোবরে জাকার্তায় বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে সংলাপ স্থগিত করে আইওসি। এর ফলে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের দৌড় থেকেও ছিটকে পড়ে দেশটি।

১৯০০ সালের পর প্রথমবার ক্রিকেট ফিরছে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে। একই সঙ্গে ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকেও এই খেলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভারতীয় বাজারকে আকৃষ্ট করতেই আইওসি ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে মনে করা হয়। তবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি উপেক্ষা করার পক্ষে নয় সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, গত বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত সীমান্ত পেরিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় পাল্টা হিসেবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

আইওসি সূত্রের মতে, বিশ্বাসযোগ্য অলিম্পিক আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ভারতকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখাতে হবে।

All Categories